Spiritual Healing

বলা হয়।


মস্তিষ্কে মিশ্র আসমানি রঙ প্রবেশ করে প্রোথিত হওয়ার ফলে চিন্তা, অবস্থা (কাইফিয়াত), অনুভূতি ইত্যাদি ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকে। এই পরিবর্তনের প্রকৃতি এমন যে—এই রঙের ছায়াগুলো কখনো হালকা, কখনো গাঢ় হয়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় প্রভাব সৃষ্টি করে এবং সঙ্গে সঙ্গেই নিজের স্থান ত্যাগ করে, যাতে অন্যান্য ছায়া তাদের স্থান দখল করতে পারে। বহু ছায়া, যারা স্থান ত্যাগ করে, সেগুলো গভীর হওয়ার কারণে অনুভূতিতে রূপান্তরিত হয়। এ ছাড়াও বহু চিন্তার আকৃতি ছড়িয়ে পড়ে ও বিলীন হয়ে যায়। ধীরে ধীরে মানুষ এই চিন্তাগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে শেখে। যেসব চিন্তাকে সে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করে, সেগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়; আর যেগুলোকে গ্রহণ করে, সেগুলো কার্যকলাপে পরিণত হয়। এই ছায়াগুলো এভাবেই কাজ করতে থাকে এবং এই ছায়াগুলোর মাধ্যমেই মানুষ দুঃখ ও স্বস্তি লাভ করে। কখনো সে দুঃখিত হয়, কখনো অত্যন্ত দুঃখিত হয়; আবার কখনো সে আনন্দিত হয়, কখনো অত্যন্ত আনন্দিত হয়। এই ছায়াগুলোর যতটুকু অংশ দেহ থেকে নির্গত হতে পারে, তা হয়ে যায়; আর যতটুকু দেহের ভেতরে প্রোথিত হয়ে যায়, তা স্নায়বিক ব্যবস্থায় রূপ নেয়।
মানুষ যেহেতু দুই পায়ে চলাচল করে, তাই সর্বপ্রথম এই ছায়াগুলোর প্রভাব তার মস্তিষ্ক গ্রহণ করে। মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালি রয়েছে, যার মাধ্যমে তা স্নায়বিক ব্যবস্থাকে পরিচালিত করে। মাথার পশ্চাৎভাগ—অর্থাৎ উম্মুদ্‌দিমাগ (মস্তিষ্কের মূল অংশ) এবং হারাম মাগজ (মেরুদণ্ড)—এই স্নায়বিক ব্যবস্থায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। দুঃখ ও আনন্দ—উভয়ই স্নায়বিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। প্রকৃতপক্ষে দুঃখ ও আনন্দ হলো বিদ্যুতের এক ধরনের প্রবাহ, যা মস্তিষ্ক থেকে প্রবেশ করে সমস্ত স্নায়ুর মধ্যে বিস্তৃত হয়ে যায়। এই তরঙ্গগুলো দুই পায়ে চলা প্রাণীর মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। এই তরঙ্গগুলোর ওজন, বিশ্লেষণ, পরিবেশ ও প্রভাব সর্বত্র একরকম হয় না; বরং বিভিন্ন স্থানে বিভাজিত হয়। এই বিভাজন প্রক্রিয়ায় কিছু ছায়া অধিক মাত্রায় শোষিত হয় এবং কিছু ছায়া কম মাত্রায় শোষিত হয়।
মানুষের মস্তিষ্কে অগণিত কোষ (cells) সক্রিয় থাকে। এ কথা অপরিহার্য নয় যে পরিবেশ থেকে সৃষ্ট ছায়ার তরঙ্গগুলো এই অগণিত কোষে সর্বদা নিজেদের প্রভাব বজায় রাখবে। কখনো তাদের প্রভাব অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে যায়, কখনো সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে এটি স্পষ্ট যে মস্তিষ্ক-সম্পর্কিত এই সমস্ত কোষ কখনোই শূন্য থাকে না। কখনো তাদের প্রবণতা বাতাসের দিকে বেশি থাকে, কখনো পানির দিকে, কখনো খাদ্যের দিকে এবং কখনো কেবল আলোয়ের দিকে। আর এই আলো থেকেই রঙ এবং রঙের মিশ্র রূপসমূহ সৃষ্টি হয় এবং ক্রমাগত ব্যয়িত হতে থাকে।

Topics


রং ও আলোর মাধ্যমে চিকিৎসা {Bangla}

খাজা শামসুদ্দিন আজিমী।