Spiritual Healing

দ্বিতীয় অধ্যায়


আলোর ঘাটতি ও আধিক্য থেকে সৃষ্ট রোগসমূহ
মৃগীর খিঁচুনি
যখন কোষসমূহে বৈদ্যুতিক প্রবাহের তাসরুফ ঘটে এবং এই প্রবাহ তরঙ্গের রূপ নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন সেই সংঘর্ষ থেকে অসংখ্য রঙের জন্ম হয়। এসব রঙকে আমরা বিভ্রম বা চিন্তা বলেও অভিহিত করতে পারি। বাস্তবে আমাদের মস্তিষ্কে যে সকল অবস্থা (কাইফিয়াত) প্রবেশ করে, সেগুলো মূলত রঙেরই বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্য কখনো কখনো তার সীমা অতিক্রম করতে চায়। কিন্তু সীমার বাইরে যাওয়া তখনই সম্ভব হয়, যখন বাইরে যাওয়ার কোনো পথ সে খুঁজে পায়।
ঘটনা এই যে, হঠাৎ করে উম্মুদ্‌দিমাগ (মস্তিষ্কের মূল অংশ)-এর ভেতরে বহু প্রবাহ একত্রিত হয়ে যায় এবং পরস্পরের পথ রুদ্ধ করে ফেলে। যে সব দরজা ভেতরে নেওয়া বা বাইরে বের করার কাজ করে, সেখানে এত বেশি ভিড় জমে যায় যে ভেতরে–বাইরে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় যদি হঠাৎ পানি চোখের সামনে আসে, তবে রুদ্ধ হয়ে থাকা প্রবাহের তরঙ্গ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মৃগীর খিঁচুনি শুরু হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত এই দরজাগুলোর ভিড় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, ততক্ষণ রোগী অচেতন অবস্থায় থাকে। যখন দরজাগুলো ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করে, তখন রোগীর চেতনা ফিরে আসে। যেহেতু তখন স্নায়ুতন্ত্র সম্পূর্ণভাবে অবশ হয়ে থাকে, তাই নড়াচড়াও দেরিতে শুরু হয়। ধীরে ধীরে রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
পানির দিকে দৃষ্টি পড়া ছাড়াও আরও অনেক অবস্থা আছে, যা মৃগীর খিঁচুনির কারণ হতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে যত দ্রুত সম্ভব দরজাগুলোতে জমে থাকা বৈদ্যুতিক প্রবাহের চাপ কমানো জরুরি। যদি দীর্ঘ সময় এই অবস্থা বজায় থাকে, তবে রোগী গুরুতর বিপদের সম্মুখীন হয়।
(রোগীর পড়ে যাওয়ার কারণ হলো—মস্তিষ্কের প্রবাহ স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করা বন্ধ করে দেয়।)
এর একটি অত্যন্ত সহজ পদ্ধতি হলো—রোগীর মাথা মাটি থেকে হাতের ওপর তুলে ধরা, তবে মাত্র এক ইঞ্চি, এর বেশি নয়। এরপর দুই–তিনবার খুব হালকা নড়াচড়ায় মাথা দোলানো। এতে খিঁচুনি থেমে যাবে। তবে কিছুক্ষণ চোখের মণির দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত, যাতে স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত কোষগুলো দর্শকের দৃষ্টির সঙ্গে সংঘর্ষে আসে। এতে দরজাগুলোর ভিড় দ্রুত কমে যায়।
মৃগীর রোগের আরেকটি লক্ষণ হলো—চোখের মণি নিজের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে কিছুটা ওপরে সরে যায়।

Topics


রং ও আলোর মাধ্যমে চিকিৎসা {Bangla}

খাজা শামসুদ্দিন আজিমী।